Ticker

12/recent/ticker-posts

Header Ads Widget

৭ম শ্রেণির কর্ম ও জীবনমুখী শিক্ষা এ্যাসাইনমেন্ট ১৫তম সপ্তাহ

 

৭ম শ্রেণির কর্ম ও জীবনমুখী শিক্ষা এ্যাসাইনমেন্ট ১৫তম সপ্তাহ

শ্রেণি: ৭ম

বিষয়: কর্ম ও জীবনমূখী শিক্ষা

এসাইনমেন্ট নং: ০৩

এসাইনমেন্টের শিরোনাম: ঘর সাজানোর ক্ষেত্রে আমার তৈরি

সৃজনশীল জিনিসপত্র!

ঘর সাজানোর ক্ষেত্রে সৃজনশীলতা বিকাশের মাধ্যমে তৈরি করতে পারা বস্তুর তালিকা ও বিবরণ:

১) প্লাস্টিকের বোতলের ঝাড়বাতি : বোতলের নিচের অংশ কেটে রঙ করে নিই। শুকিয়ে গেলে আঠা দিয়ে বা ফুটো করে জোড়া দিই, ভেতরে সেট করি পছন্দসই লাইট। ব্যস, তৈরি হয়ে গেল আনকমন ঝাড়বাতি। খরচ খুবই সামান্য।

২) প্লাস্টিকের বোতলের মাছের পিঠের মতো ঝাড়বাতি: বড় একটি বোতল নিয়ে নিচের অংশ কেটে ফেলে দিই। এবার ওয়ান টাইম ইউজ প্লাস্টিকের চামচের ডাঁটা কেটে ফেলি। চামচের ওপরের অংম আঠা দিয়ে সেট করি বোতলের গায়ে। 

মাছের আঁশের মতো করে বসাই। বোতলের মুখের জায়গায় পরপর সেট করি আরো কিছু চামচের মাথা, এতে মুখটা ঢাকা পড়ে যাবে। এরপর একটা বাল্ব তারের সাথে সংযুক্ত করে বোতলের ভেতর দিয়ে ঢুকিয়ে দিই। তৈরি হয়ে গেল।

৩) প্লাস্টিকের বোতলের জুয়েলারি স্ট্যান্ড: ৪টি রঙিন বোতলের নিচের অংশ কেটে নিই। ফুলের মতো করতে মাঝে ছিদ্র করি। এরপর একটি ফুল উপুড় করে বসিয়ে ছিদ্র দিয়ে স্টিলের রিং আর ডাঁটা সংযুক্ত করি। এরপর বাকি ৩টি ফুল একটু দূরে দূরে সোজা করে বসাই। 

সবার উপরের ফুলের মাঝে পছন্দমতো পুঁতি বসিয়ে দিই। তৈরি হয়ে গেল টুকটাক গহনা রাখার দারুন স্ট্যান্ড!

৪) প্লাস্টিকের বোতলের ফুলেল ল্যাম্প: রঙিন বোতলের নিচের অংশ কেটে নিই। এরপর আঠা দিয়ে জোড়া দিয়ে একটি গোলক বানাই। একদম নিচে মাঝখানে ফাঁকা রাখি। এরপর একটা ল্যাম্পস্ট্যান্ডের ওপর বসিয়ে দিই। দুর্দান্ত ল্যাম্পশেড তৈরি।

৫) প্লাসিকের বোতলের কার্টুন টব: বোতলের নিচের অংশ কার্টুনের শেপে কাটি। বাচ্চাদের প্রিয় যেকোনো কার্টুন ক্যারেক্টার রঙ দিয়ে এঁকে নেই রঙ দিয়ে। শুকিয়ে গেলে সুতা বেঁধে ঝুলিয়ে দেই ঘরের কোনায়। ভেতরে গাছ লাগিয়ে দেই। দেখতে তো দারুণ লাগবেই, বাচ্চারা আগ্রহ নিয়ে গাছের যত্নও নেবে।

৬) প্লাস্টিকের বোতলে পাতায় ঝোলানো ল্যাম্প: সবুজ পাতা দিয়ে বানানো ঝুলন্ত ল্যাম্প বানানো যায় একটু কষ্ট করলেই। সবুজ, সাদা, হলুদ, বাদামী এমন নানা রঙের বোতল থেকে পাতা কেটে নেই। পাতার ধার মসৃণ করা ও শিরা বানানোর জন্য গরম লোহা দিয়ে সাবধানে শেপ করি। 

এরপর  তার দিয়ে ডাল বানিয়ে পাতাগুলো সেট করি। ডালের একমাথা খালি রাখি। পাতাগুলো নিচের দিকে দিয়ে গোল করে শেপ দেই। শেষে পছন্দমতো বাল্ব সেট করি। রাতে তো দারুণ লাগবেই, দিনেও অসাধারণ লাগবে দেখতে। সতেজ সবুজ ঝুলন্ত ল্যাম্প বানিয়ে তাক লাগিয়ে দেই প্রিয়জনকে।

৭) প্লাস্টিকের বোতলের ফুলদানী: কোমল পানীয়ের বোতল নেই যেগুলো নিচে একটু বাঁকানো থাকে। মাঝ বরাবর কেটে নেই ছবির মতো। এরপর খাঁজ কাটি। কাটা হলে হাতের চাপে ছড়িয়ে সেট করি। এরপর প্রত্যেকটা খাঁজ বাঁকিয়ে দেই। তৈরি অন্যরকম ফুলদানী। অতিথি এলে চটপট বানিয়ে ফুল রেখে চমকে দেই সবাইকে।

৮) প্লাস্টিকের বোতলের স্বচ্ছ পর্দা: স্বচ্ছ বোতলের নিচের ফুল এক মাপে কেটে নেই। এরপর ফাইবারের স্বচ্ছ সুতা দিয়ে গেঁথে ফেলি ছবির মতো করে। চটপট তৈরি হয়ে গেল বসার ঘরের বারান্দার কাঁচের স্লাইডিং ডোরের জন্য ফুলের পর্দা। এর ভেতর দিয়ে বাইরের প্রকৃতি, বৃষ্টি দেখি আর উপভোগ করুন। প্রিয়জনের প্রশংসা তো আছেই।

উপরোক্ত আলোচনায় ঘর সাজানোর ক্ষেত্রে সৃজনশীলতা বিকাশের মাধ্যমে তৈরি করতে পারা আমাদের বর্তমান এবং শিশুবেলার পুরাতন কিংবা অব্যহৃত বিভিন্ন জিনিসপত্র। স্কুলের দিনগুলোর কথা মনে পড়ে স্লেট, পেনসিলে ফটাফট লিখতাম আর মুছতাম।

ঘর সাজানোর ক্ষেত্রে সৃজনশীলতার প্রয়োজনীয়তা:

আমরা সবাই কমবেশি ঘর সাজাতে ভালোবাসি। কিন্তু পরিবারের মাসের খোরাক জুগিয়ে, ঔষধ ও ডাক্তার ফি আর পানি-বিদ্যুতের বিল মিটিয়ে ঘর সাজানোর নিত্যনতুন জিনিসপত্র কেনা আসলেই খুব দুরুহ হয়ে পড়ে। অথচ একটু বুদ্ধি খরচ করলে আর কিছুটা সৃজনশীলতার পরিচয় দিয়ে যৎসামান্য খরচেই নিজেদের বাড়িঘর নান্দনিক রুপে সাজিয়ে তোলা যায়। 

এ ক্ষেত্রে প্রথমেই বলতে হয় নিজেদের সূপ্ত সৃজনশীল প্রতিভার বিকাশ ঘটানোর কথা। অবসর সময়ে আমরা অনেকেই শুধু মুঠোফোন, টেলিভিশন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইত্যাদির মধ্যে ডুবে থেকে অলস সময় পার করি। অথচ শখের কাজ যেগুলো আগে ঘরে ঘরে প্রচলিত ছিল, সেগুলো নিঃসন্দেহে এর থেকে অনেক ভালো। আর ঘর সাজানোর অনন্য সব উপকরণ হাজির করে দিতে পারে প্রায় বিনা পয়সায়।

শখের সূচিকর্ম বা কাঁটার কাজের কথাই ধরা যাক, খুঁজলে আজও আমাদের অনেকের বাড়িতে আলমারির কোণে বা পুরোনো ট্রাংকে মাতামহীর হাতে পরম যত্নে সেলাই করা ভরাট কাজের ফুল, লতা, পাতা, পাখি বা ‘মায়ের দোয়া’ লেখা  এক টুকরো ভাঁজ করা কাপড় পাওয়া যাবে। 

অমূল্য স্মৃতিবিজড়িত এই শিল্পকর্মগুলো ফ্রেমিং করে নিয়ে একেবারে অসাধারণ সব ওয়ালপিস পেতে পারি আমরা। এই সূচিশিল্পগুলো থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে আর সেই সঙ্গে ইন্টারনেটে পাওয়া হাজারো নমূনা দেখে নিজের কল্পনার মিশেলে এমন সূচিকর্ম, ক্রস স্টিচের কাজ, কুরুশ কাঁটার কাজ করে বাঁধিয়ে নিয়ে তা দিয়ে ঘরের সৌন্দর্য অসামান্য রকমের বাড়িয়ে তোলা যায়।

আগের দিনের মতো টি-কোজি, ন্যাপকিন, বালিশ বা কুশন কভার, টেবিলক্লথ ইত্যাদিতেও নিজের হাতের কাজের ছোঁয়া অত্যন্ত সূরুচির পরিচয় দেয়। আবার সৃষ্টিশীল মনকে কাজে লাগালে রংবেরঙের কাগজ দিয়ে ‘কুইলিং’ করা যায়, ধান-ডাল-শর্ষে আঠা দিয়ে বসিয়ে চিত্র তৈরি করা যায়।

নিজে আঁকিবুঁকি করা শখের হাঁড়ি, রিকশা পেইন্টিংয়ের আদলে রাঙিয়ে নেওয়া বাক্স, রঙিন মোম বা পুঁতি দিয়ে বানানো শোপিস, কাপড়ের পুতুল এইসবই ঘর সাজানোর অসাধারণ অনুষঙ্গ হয়ে উঠতে পারে। আর ছবি আঁকার শখ থাকলে তো কথাই নেই। 

তেলরং, জলরং বা মিশ্র মাধমে করা নিজের হাতের চিত্রকর্ম, ক্যালিগ্রাফি বা ভাস্কর্য দিয়ে সাজানো বসার ঘরটি ঘরে-বাইরের সবার মুগ্ধতার কারণ হয়ে দাঁড়াবে। আর এতে যে আত্মিক প্রশান্তি বা সস্তুষ্টি পাওয়া যায়, তা লাখ টাকা দিয়ে কেনা দামি দামি শোপিসে কখনোই মিলবে না।

এই সৃজনশী কাজের মাধ্যমে ঘর সাজানোর ব্যাপারটিতে শিশুদেরও অন্তর্ভুক্ত করা উচিত। তাদের মতামত ও রুচিকে গুরুত্ব দিয়ে তাদের নিজেদের বানানো অরিগ্যামি (কাগজ ভাঁজ করে বানানো শিল্প), এঁটেল মাটি বা প্লেডো দিয়ে বানানো নানা রকম শিশুসূলভ জিনিস, লেগোব্লক দিয়ে গড়া গাড়ি-বাড়ি, এসব দিয়ে তাদের নিজেদের ঘরটি সাজিয়ে-গুছিয়ে নিতে সাহায্য করলে অল্প বয়সেই তাদের মধ্যে গৃহসজ্জার ব্যাপারে সূরুচি আর আগ্রহ তৈরি হবে।

 পোস্টটির পিডিএফ ফাইল ডাউনলোড করার জন্য এখানে ক্লিক করুন:

পূর্বের এ্যাসাইনমেন্ট গুলো পাওয়ার জন্য নিচের লিংকে ক্লিক করুন :

৮ম-শ্রেণির-এ্যাসাইনমেন্ট-কর্ম ও জীবনমুখী-১৪তম-সপ্তাহ-২০২১

৭ম-শ্রেণির-এ্যাসাইনমেন্ট-ইংরেজি-১১তম-সপ্তাহ-২০২১

৭ম-শ্রেণির-এ্যাসাইনমেন্ট-তথ্য ও যোগাযোগ-১১তম-সপ্তাহ-২০২১

৭ম-শ্রেণির-এ্যাসাইনমেন্ট-বিজ্ঞান-১২তম-সপ্তাহ-২০২১

৮ম-শ্রেণির-এ্যাসাইনমেন্ট-কর্ম ও বহুমুখী-শিক্ষা-১২তম-সপ্তাহ-২০২১

৬ষ্ঠ-শ্রেণির-এ্যাসাইনমেন্ট-ইংরেজি-১২তম-সপ্তাহ-২০২১

নবম-শ্রেণির-এ্যাসাইনমেন্ট-ব্যবসায়ী-উদে্দাগ-১১তম-সপ্তাহ-২০২১

নবম-শ্রেণির-এ্যাসাইনমেন্ট-বাংলা-১২তম-সপ্তাহ-২০২১

৭ম-শ্রেণির-এ্যাসাইনমেন্ট-ইংরেজি-১১তম-সপ্তাহ-২০২১

৮ম-শ্রেণির-এ্যাসাইনমেন্ট-বাংলা-১৩তম-সপ্তাহ-২০২১

 

 

Post a Comment

0 Comments

Logo design

How to free download for premium logo design